Bengali

…………………………………………

“আমাদের অস্তিত্বকে ব্যাখা  করতে চেষ্টা করে এমনসব  বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনাকে আমি একটা ব্লগ আকারে সাজাবার চেষ্টা করে চলেছি।”

-নবকুমার গরাই

…………………………………………

‘আনবিক জীববিদ্যা’ কথাটা মনে করিয়ে দেয়, আমরা আসলে অনু-পরমাণু দিয়েই গড়া । আগে পৃথিবীর পুরোটাই ছিল জ্বলন্ত গ্যাসীয় অগ্নিপিন্ড। কিন্তু এখনকার পৃথিবীর উপরিভাগে মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও গাছপালা তাহলে এল কীভাবে? ডারউইনের মতে, উপরিভাগের ঐ গ্যাসীয় পদার্থটাই ঠান্ডা হয়ে ও রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে জটিলতর গঠন অর্থাৎ জীবজগতের সৃষ্টি করেছে। একটা তুলনা দিই? নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুর-ডোবা-সাগর-মহাসাগর-উপসাগর-হিমশৈল-হিমবাহ-বৃষ্টি-শিশির-জলীয়বাষ্প-মেঘ-তুষার এসব আসলে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জলের[H2O] টিকে থাকাকেই বোঝায়। ঠিক একইরকমভাবে , ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়া-অ্যামিবা-গাছপালা-মানুষসহ সমস্ত জীবজগৎ এসব হল সম্ভাব্য নানা উপায়ে আদিম সমুদ্রে সৃষ্ট নিউক্লিক এসিডের[RNA/DNA] এখনো টিকে থাকা। যে মুহূর্তে আমরা আবিষ্কার করি আমাদের প্রজাতিকে গাণিতিক চিরন্তনতার রঙ্গমঞ্চে অনাবশ্যক চরিত্ররূপে ক্ষণিকের ডাইনোসরীয় পদচারণায় মেতে থাকতে, আমাদের লক্ষ্য হয়ে পড়ে বিজ্ঞানের দ্বারা মানবজাতির অস্তিত্বকে যেন-তেন-প্রকারেণ আক্ষরিকঅর্থেই চিরস্থায়ী করা। আমরা জীবন তথা ব্রম্ভান্ড নামক রহস্যের অংশ হিসেবে অস্তিত্বকে একমাত্র গণিত ও পর্যবেক্ষণের মেলবন্ধনে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করার পরেই এটাকে ব্যক্তিক ও প্রজাতিগতভাবে চিরন্তন ও অধিকতর চমকপ্রদ করার স্পর্ধা দেখাতে পারি। ********************* যখন কোয়ান্টাম থিওরিকে সম্ভাব্য ক্ষুদ্রতম স্কেলে প্রয়োগ করা হয়, স্থান-কাল তখন মসৃণ এবং ধারাবাহিক না থেকে , ডিস্ট্যাবলাইজড ও কোয়ান্টাইজড হয়ে যায়, এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই স্থান-কালের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বুদবুদের জন্ম হয়। *********************** লরেন্স ক্রসের মতে, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে ভারচুয়াল পার্টিকেলের মতো ভারচুয়াল স্পেসটাইম তৈরিও সম্ভব। ********************* আলেকজান্ডার ভিলেনকিনের মতে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স যাকে ঘটতে বাধা না দেয়, তা অবশ্যই কোন নন জিরো প্রোবাবিলিটি নিয়ে ঘটবে। ******************* বিগব্যাং এর পরের এক সেকেন্ডেরও একটি ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে স্পেস এর একটি কোয়ান্টাম সাইজের বাবল বা বুদবুদ অবিশ্বাস্য রকমের কম সময়ের মধ্যে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চেয়েও ক্ষুদ্র আকার থেকে প্রসারিত হয়ে একটি বালুকণার আকার ধারণ করে। ******************** যখন মহাজাগতিক অতিস্ফীতি শেষ পর্যন্ত ধীর গতি লাভ করে, তখন যে ফোর্স ফিল্ড এটার প্রসারণের জন্য শক্তি দিয়ে আসছিল তা ভর ও শক্তিতে পরিণত হয় এবং আজকের মহাবিশ্ব এই ভর-শক্তি দ্বারাই পরিপূর্ণ। ********************* গুথ মহাজাগতিক অতিস্ফীতি বা ইনফ্লেশনকে বলেছেন “দ্য আল্টিমেট ফ্রি লাঞ্চ”। ********************** বিগ ব্যাং এর ঠিক পরের ১০^-৪৩ সেকেন্ড পর্যম্ত সময়কে প্লাংক ইপক বলা হয়। ***********************প্লাংক ইপকের পরে কি হয়েছিল তা আলাদা আলাদাভাবে কেবল কোয়ান্টাম মেকানিক্স কিংবা জেনারেল রিলেটিভিটির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা গেলেও এই সময়ের আগে কি হয়েছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং জেনারেল রিলেটিভিটি দুটোর সংমিশ্রনের প্রয়োজন হয় । ****************** প্লাংক ইপকের ঘটনাগুলো গ্র্যাভিটির কোয়ান্টাম এফেক্টের উপরেই নির্ভর করে। *********** কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং জেনারেল রিলেটিভিটিকে একত্রিত করার জন্য ২০১৪ সালে চীনের কিং ইউ কাই এর নেতৃত্বে গবেষকদের একটি দল হুইলার-ডিউইট ইকুয়েশনের একটি সল্যুশন ডেভেলপ করেন যা শূন্য থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিগব্যাং ঘটার প্রথম গাণিতিক প্রমাণ হাজির করে। ******************* হাইজেনবার্গের টাইম-এনার্জি আনসারটেইনটি প্রিন্সিপাল বা সময়-শক্তি অনিশ্চয়তা নীতি অনুসারে, একটি মেটাস্ট্যাবল ফলস ভ্যাকুয়ামে (স্থান, কাল ও পদার্থবিহীন একটি অবস্থা) ভারচুয়াল পার্টিকেল জোড় তৈরি হতে পারে। ***********************হাইজেনবার্গের টাইম-এনার্জি অনিশ্চয়তা নীতি অনুযায়ী কোন সিস্টেমে খুব কম সময়ের জন্য একটি ইন্টারমিডিয়েট স্টেটে শক্তি অনিশ্চিত হয় যায়, আর এরকম অবস্থায় শূন্য থেকে দুটি পার্টিকেল তৈরি হতে পারে যাকে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন বলা হয়। ********************* কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ভারচুয়াল পার্টিকেলের পেয়ার বা জোড় যদি তৎক্ষণাৎ নির্মূল হওয়াকে এড়াতে পারে তাহলে এরা একটি ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবল তৈরি করতে সক্ষম হয়। ***********************চীনের কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণটি থেকে দেখা যায় যে, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবল বা বুদবুদের এক্সপোনেনশিয়ালি প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা আছে, যার ফলে একটি নতুন মহাবিশ্ব তৈরি হতে পারে। ********************** চীনের কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণটি থেকে দেখা যায় যে, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবল বা বুদবুদের এক্সপোনেনশিয়াল বৃদ্ধি বিগব্যাং এর পরে হওয়া গুথের কসমিক ইনফ্লেশনের সাথে মিলে গেছে। ******************** একটি নির্দিষ্ট আকার লাভের পর হুইলার-ডিউইট কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবলের এক্সপোনেনশিয়াল প্রসারণ থেমে যেতে পারে, অথবা পরবর্তীতে এটি সমবেগে প্রসারিত হতে পারে। ********************* চীনের কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণের ভিন্ন ভারশনের ইনফ্লেশন প্রস্তাবটি গুথ, লিন্ডে ও অন্যান্য পদার্থবিদদের ইনফ্লেশন থেকে কিছুটা ভিন্ন কারণ এই নতুন ইনফ্লেশন মডেলটি স্কেলার ফিল্ডের উপর নির্ভর করে না, শুধুমাত্র কোয়ান্টাম এফেক্টের উপরেই নির্ভর করে। ********************* কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণের ‘কোয়ান্টাম পোটেনশিয়াল’ বা মেটাস্ট্যাবল ফলস ভ্যাকুয়াম বা স্পেস, টাইম, ম্যাটার বিহীন নাথিং বা ‘কিছু না’ হচ্ছে তাই যাকে লরেন্স ক্রস, ফ্রাংক উইজেল ‘ইনহেরেন্টলি আনস্ট্যাবল নাথিং’ বলেছেন। ******************** ইনফ্লেশন মহাবিশ্বের জ্যামিতিকে নির্ণয় করবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ********************* আইনস্টাইনের জেনারেল রিলেটিভিটি বা সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুসারে, আমরা যে মহাবিশ্ব বা স্থান-কালে থাকি তা টেবিল টপের মত সমতল, গোলকের তলের মত বক্রতল বা ঘোড়ার জিনের মতো বাইরের দিকে বাঁকা হতে পারে। ********************* মহাবিশ্বের ভাগ্য কি হবে তা একরকম তার প্রসারণের ভরবেগ এবং মহাকর্ষের টানের সংঘাতের উপর নির্ভর করে। ********************* যে কোন বয়সের যে কোন মানুষ যখন প্রথমবার কোয়ান্টাম মেকানিক্স সম্পর্কে জানতে পারে, তার চিন্তাভাবনার জগতে বেশ বড়সড় একটা ধাক্কা লাগে। ********************* “কেউ যদি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রথম দেখায় ধাক্কা না খায়, তাহলে খুব সম্ভবত সে এটা বুঝতেই পারেনি!” -নীল‌্স‌ বোর **********************আমাদের জগৎ তথা পদার্থ কোয়ান্টাম কণা বা ক্ষেত্র দিয়ে তৈরি বলে পদার্থের চরমতম স্বরূপ বুঝতে হলে আমাদের কোয়ান্টাম মেকানিক্স জানতেই হবে। ********************* রহস্যময়তায় পৃথিবীর সবচাইতে অদ্ভুত সায়েন্স ফিকশনকেও হার মানাবে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জগত। *********************** কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নিয়মগুলো যত না এসেছে যুক্তির সিঁড়ি বেয়ে তার চেয়ে বেশি এসেছে পরীক্ষালব্ধ ফল থেকে। ******************* প্রকৃতির নিষ্ঠুর উদাসীনতা কিংবা প্রতিকূলতাকে অস্বীকার করার একটা প্রাকৃতিক নির্বাচনজনিত তাৎক্ষণিক সুবিধা থাকলেও এমন ভাবার কোনও কারণ নেই যে মহাবিশ্বের নিয়মগুলো বাস্তবিকই আমাদের মনের মত। *********************************** বিজ্ঞানীরা আদৌ জানেন না প্রকৃতিজগতে সবকিছু কেন এভাবেই হয়, তারা শুধু জানেন কী হয়। *********************************** পদার্থ তথা প্রকৃতিকে বুঝতে হলে ইনভ্যারিয়েন্স ( অপরিবর্তনীয়তা) ও সিমেট্রি(প্রতিসমতা)সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী। ******************************* আইন্সটাইনের প্রশংসাপ্রাপ্তা এমি নোয়েদারের থিওরি বলে, যেখানেই সিমেট্রি পাওয়া যাবে, সেখানে অবশ্যই কোন না কোন নিত্যতার বা সংরক্ষণশীলতার সূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। ********************** নিত্যতার বা সংরক্ষণশীলতার সূত্র বলতে বোঝায় কোন ভ্যারিয়েবল (ভর, শক্তি, চার্জ ইত্যাদি) কোন একটা ট্রান্সফরমেশন বা রুপান্তরের মধ্য দিয়ে গেলেও অপরিবর্তিত থাকে। ******************************* একটা বড় মসৃণ লোহার গোলককে এক চক্কর ঘুরিয়ে আনলেও তার আগের চেহারা এবং এখনের চেহারার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না কারণ, গোলকটার রোটেশনাল সিমেট্রি (ঘূর্ণন প্রতিসাম্য) আছে। ********************* নোয়েথার থিওরেম অনুযায়ী, পদার্থবিদ্যার সূত্রগুলো সময়ের সাথে অপরিবর্তিত বা সিমেট্রিক হওয়ার অর্থ কোন একটা নিত্যতার সূত্র । ( হিসাব-নিকাশ করে দেখা গেল “শক্তি”র নিত্যতা!) **************** স্থানের সাপেক্ষে সিমেট্রিক সিস্টেম দেয় “ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র”! ******************** ভরবেগ থেকে পদার্থের গতিশক্তি আঁচ করা যায় কারণ , কারো ভরবেগ বেশি হওয়া মানে সে অন্য বস্তুর উপর বিশাল গতিশক্তিতে আঘাত করতে পারে। ************ পার্টিকেল এক্সিলেটরে নতুন কণাদের জন্য সিমেট্রি খোঁজা হয়, কারণ সিমেট্রি থেকে আঁচ করা যায়, এরা কোন সূত্র মেনে চলে। *************** পদার্থের Phase বা ‘দশা’ বা অণুগুলোর সাজ বা বিন্যাস পরিবর্তন হওয়া মানে তার অভ্যন্তরে কোন একটা সিমেট্রির বিবর্তন হওয়া। ******************* দশা এবং সিমেট্রির সম্পর্ক জল(বেশি সিমেট্রিক)ও বরফ(কম সিমেট্রিক) দিয়ে বোঝা যায়। ***********************জল তরল অবস্থায় কন্টিনিউয়াস ট্রান্সলেশন এবং রোটেশনাল সিমেট্রি দেখায়, কিন্তু বরফ হয়ে গেলে শুধু ডিসক্রিট ট্রান্সলেশনাল সিমেট্রি দেখাবে। *********************** ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন নামক ভগ্নাংশে কোয়ান্টাম স্পিনযুক্ত ফার্মি-ডিরাক স্ট্যাটিস্টিক্স মান্যতাকারি ফার্মিয়ন দিয়ে আমাদের সব পদার্থ তৈরি। ************** ফোটন, গ্র্যাভিটন নামক পূর্ণ সংখ্যায় কোয়ান্টাম স্পিনযুক্ত বোস-আইন্সটাইন স্ট্যাটিস্টিক্স মান্যতাকারী বোসন সব ধরণের বল বহন করে। ************* এক্সপেরিমেন্টালি কোয়ান্টাম স্পিনের দুই রকম চেহারা -স্পিন আপ এবং স্পিন ডাউন। *************** কোয়ান্টাম কণা হিসাবে অণু-পরমাণুগুলোর সব স্পিন যদি একই দিকে থাকে তখন সেই পদার্থ চৌম্বক ধর্ম দেখায়। *********************** একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার উপরে উঠলে অণু-পরমাণুগুলো এতই কাঁপা-কাঁপি শুরু করে যার জন্য তারা সব স্পিনকে আর একদিকে রাখতে পারে না। এই তাপমাত্রা (কুরী তাপমাত্রা) পার হলে চুম্বক আর তার চৌম্বকত্ব দেখাতে পারে না। আবার সেই সিমেট্রির বিবর্তন হওয়া। *************** গিঞ্জবার্গ এবং ল্যান্ডাউ এর মডেলটা বলে যে, তাপমাত্রার পরিবর্তনে পদার্থের অণু-পরমাণুদের অভ্যন্তরীণ শক্তির পরিবর্তন হতে হতে যখন পদার্থের মধ্যে নিজে নিজে (স্পন্টেনিয়াস) সিমেট্রি ব্রেকিং হয়, তখনই পদার্থ তার দশা পরিবর্তন করে। ******************* টপোলজিক্যালি দুইটি বস্তু একই হওয়ার শর্ত হল, আপনি পরিবর্তনের সময় তাকে ছিঁড়তে বা ভাঙ্গতে পারবেন না এবং তার মাঝে যে কয়টা গর্ত আছে, সেই সংখ্যাটা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। ****************** একটা আংটি,একটা ফ্রিজবি এবং একটা চা’য়ের কাপ টপোলজিক্যালি একই জিনিস। *************** একমাত্রিক এবং দ্বিমাত্রিক পদার্থে টপোলজিক্যাল সিমেট্রির পরিবর্তনেও পদার্থের দশা পরিবর্তিত হয়। ************** সুপার ফ্লুয়িড দশায় পদার্থের কোন সান্দ্রতা থাকে না। ************************************ সান্দ্রতা হল আকৃতি পরিবর্তনে তরল পদার্থ কতটুকু বাধা দেয়। ***************************** জলের থেকে মধুর সান্দ্রতা অনেক বেশি। ************************************* পরম শূন্য তাপমাত্রার উপরে দ্বিমাত্রিক তরল হিলিয়াম পরিবেশের তাপশক্তিতে স্পিনের ঘূর্ণিস্রোত বা ভরটেক্স তৈরি করে বলে সুপার ফ্লুয়িড বা সান্দ্রতা শূন্য নতুন কোন দশায় পরিবর্তিত হয়ে স্থিতিশীল হতে না পারলেও দুইটা ভরটেক্স একে অপরের উল্টোদিকে ঘুরলে ভিন্ন টপোলজির জন্য ভরটেক্স শূন্য স্থিতিশীল সুপার ফ্লুয়িড বা সান্দ্রতা শূন্য নতুন সিমেট্রি পেয়ে যাওয়া সম্ভব। *********** একমাত্রিক ফার্মিয়নের শেকলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলেই তারা ভয়ংকরভাবে আন্দোলিত হতে থাকে। আবার ভিন্ন টপোলজির বোসনের শেকলে অনেক শক্তি দিয়ে আঘাত করলেও সে সহজে আন্দোলিত হয় না। ************************** বিসমাথ সেলেনাইড দিয়ে বানানো সিলেন্ডারের দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠতল পাওয়া যাবে পরিবাহী আর অভ্যন্তরের ত্রিমাত্রিক বপু (Bulk) জুড়ে সে অপরিবাহী বা “টপোলজিক্যাল ইন্স্যুলেটর”। ****************************** Integer Quantum Hall Effect: ইলেক্ট্রনের একটা দ্বিমাত্রিক শিটের ভোল্টেজ প্রযুক্ত চৌম্বকক্ষেত্রের সাথে সুষমভাবে বাড়ে না কারণ ইলেকট্রনের শক্তি এবং ভরবেগের একটা নির্দিষ্ট রূপ বা টপোলজিক্যাল অর্ডারটা চৌম্বকক্ষেত্রের সাথে সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে বা কমে। ************************* একমাত্রিক, দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক সব ডাইমেনশনে টপোলজিক্যাল পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ****** মহাবিশ্বের প্রসারণের হার হাবলের ধ্রুবকের(পৃথিবীর সাপেক্ষে মোটামুটিভাবে দূরবর্তী ছায়াপথ গুলির বেগ ও দূরত্বের অনুপাত) উপর নির্ভর করে। *************************** হাবলের সূত্রে ,ছায়াপথ গুলি পৃথিবী কিংবা একে অপরের সাপেক্ষে যে বেগে চলে তা ঐ সংশ্লিষ্ট আপেক্ষিক দূরত্বের সমানুপাতিক । ***************** ছায়াপথ গুলির পারস্পরিক দূরত্ব এবং অপসারণ বেগের মধ্যে সমানুপাতিক সম্পর্ককে হাবলের নীতি বলে। এই সম্পর্কটিতে বেগ ও দূরত্বের অনুপাত যে ধ্রুবসংখ্যা তাকে হাবলের ধ্রুবক বলে।
……………………………………..

‘আনবিক জীববিদ্যা’ কথাটা মনে করিয়ে দেয়, আমরা আসলে অনু-পরমাণু দিয়েই গড়া । আগে পৃথিবীর পুরোটাই ছিল জ্বলন্ত গ্যাসীয় অগ্নিপিন্ড। কিন্তু এখনকার পৃথিবীর উপরিভাগে মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও গাছপালা তাহলে এল কীভাবে? ডারউইনের মতে, উপরিভাগের ঐ গ্যাসীয় পদার্থটাই ঠান্ডা হয়ে ও রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে জটিলতর গঠন অর্থাৎ জীবজগতের সৃষ্টি করেছে। একটা তুলনা দিই? নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুর-ডোবা-সাগর-মহাসাগর-উপসাগর-হিমশৈল-হিমবাহ-বৃষ্টি-শিশির-জলীয়বাষ্প-মেঘ-তুষার এসব আসলে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে জলের[H2O] টিকে থাকাকেই বোঝায়। ঠিক একইরকমভাবে , ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়া-অ্যামিবা-গাছপালা-মানুষসহ সমস্ত প্রাণীজগৎ এসব হল সম্ভাব্য নানা উপায়ে আদিম সমুদ্রে সৃষ্ট নিউক্লিক এসিডের[RNA/DNA] এখনো টিকে থাকা। যে মুহূর্তে আমরা আবিষ্কার করি আমাদের প্রজাতিকে গাণিতিক চিরন্তনতার রঙ্গমঞ্চে অনাবশ্যক চরিত্ররূপে ক্ষণিকের ডাইনোসরীয় পদচারণায় মেতে থাকতে, আমাদের লক্ষ্য হয়ে পড়ে বিজ্ঞানের দ্বারা মানবজাতির অস্তিত্বকে যেন-তেন-প্রকারেণ আক্ষরিকঅর্থেই চিরস্থায়ী করা। আমরা জীবন তথা ব্রম্ভান্ড নামক রহস্যের অংশ হিসেবে অস্তিত্বকে একমাত্র গণিত ও পর্যবেক্ষণের মেলবন্ধনে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করার পরেই এটাকে ব্যক্তিক ও প্রজাতিগতভাবে চিরন্তন ও অধিকতর চমকপ্রদ করার স্পর্ধা দেখাতে পারি। AFTER ALL, what we call ‘reality’ is ,in a fundamental sense,a kind of survival scenario to a structure or information at any level of complexity (from subatomic to biological) . ********************* যখন কোয়ান্টাম থিওরিকে সম্ভাব্য ক্ষুদ্রতম স্কেলে প্রয়োগ করা হয়, স্থান-কাল তখন মসৃণ এবং ধারাবাহিক না থেকে , ডিস্ট্যাবলাইজড ও কোয়ান্টাইজড হয়ে যায়, এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই স্থান-কালের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বুদবুদের জন্ম হয়। *********************** লরেন্স ক্রসের মতে, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে ভারচুয়াল পার্টিকেলের মতো ভারচুয়াল স্পেসটাইম তৈরিও সম্ভব। ********************* আলেকজান্ডার ভিলেনকিনের মতে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স যাকে ঘটতে বাধা না দেয়, তা অবশ্যই কোন নন জিরো প্রোবাবিলিটি নিয়ে ঘটবে। ******************* বিগব্যাং এর পরের এক সেকেন্ডেরও একটি ভগ্নাংশ সময়ের মধ্যে স্পেস এর একটি কোয়ান্টাম সাইজের বাবল বা বুদবুদ অবিশ্বাস্য রকমের কম সময়ের মধ্যে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চেয়েও ক্ষুদ্র আকার থেকে প্রসারিত হয়ে একটি বালুকণার আকার ধারণ করে। ******************** যখন মহাজাগতিক অতিস্ফীতি শেষ পর্যন্ত ধীর গতি লাভ করে, তখন যে ফোর্স ফিল্ড এটার প্রসারণের জন্য শক্তি দিয়ে আসছিল তা ভর ও শক্তিতে পরিণত হয় এবং আজকের মহাবিশ্ব এই ভর-শক্তি দ্বারাই পরিপূর্ণ। ********************* গুথ মহাজাগতিক অতিস্ফীতি বা ইনফ্লেশনকে বলেছেন “দ্য আল্টিমেট ফ্রি লাঞ্চ”। ********************** বিগ ব্যাং এর ঠিক পরের ১০^-৪৩ সেকেন্ড পর্যম্ত সময়কে প্লাংক ইপক বলা হয়। ***********************প্লাংক ইপকের পরে কি হয়েছিল তা আলাদা আলাদাভাবে কেবল কোয়ান্টাম মেকানিক্স কিংবা জেনারেল রিলেটিভিটির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা গেলেও এই সময়ের আগে কি হয়েছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং জেনারেল রিলেটিভিটি দুটোর সংমিশ্রনের প্রয়োজন হয় । ****************** প্লাংক ইপকের ঘটনাগুলো গ্র্যাভিটির কোয়ান্টাম এফেক্টের উপরেই নির্ভর করে। *********** কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং জেনারেল রিলেটিভিটিকে একত্রিত করার জন্য ২০১৪ সালে চীনের কিং ইউ কাই এর নেতৃত্বে গবেষকদের একটি দল হুইলার-ডিউইট ইকুয়েশনের একটি সল্যুশন ডেভেলপ করেন যা শূন্য থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিগব্যাং ঘটার প্রথম গাণিতিক প্রমাণ হাজির করে। ******************* হাইজেনবার্গের টাইম-এনার্জি আনসারটেইনটি প্রিন্সিপাল বা সময়-শক্তি অনিশ্চয়তা নীতি অনুসারে, একটি মেটাস্ট্যাবল ফলস ভ্যাকুয়ামে (স্থান, কাল ও পদার্থবিহীন একটি অবস্থা) ভারচুয়াল পার্টিকেল জোড় তৈরি হতে পারে। ***********************হাইজেনবার্গের টাইম-এনার্জি অনিশ্চয়তা নীতি অনুযায়ী কোন সিস্টেমে খুব কম সময়ের জন্য একটি ইন্টারমিডিয়েট স্টেটে শক্তি অনিশ্চিত হয় যায়, আর এরকম অবস্থায় শূন্য থেকে দুটি পার্টিকেল তৈরি হতে পারে যাকে কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন বলা হয়। ********************* কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ভারচুয়াল পার্টিকেলের পেয়ার বা জোড় যদি তৎক্ষণাৎ নির্মূল হওয়াকে এড়াতে পারে তাহলে এরা একটি ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবল তৈরি করতে সক্ষম হয়। ***********************চীনের কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণটি থেকে দেখা যায় যে, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবল বা বুদবুদের এক্সপোনেনশিয়ালি প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা আছে, যার ফলে একটি নতুন মহাবিশ্ব তৈরি হতে পারে। ********************** চীনের কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণটি থেকে দেখা যায় যে, কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবল বা বুদবুদের এক্সপোনেনশিয়াল বৃদ্ধি বিগব্যাং এর পরে হওয়া গুথের কসমিক ইনফ্লেশনের সাথে মিলে গেছে। ******************** একটি নির্দিষ্ট আকার লাভের পর হুইলার-ডিউইট কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশনজাত ট্রু ভ্যাকুয়াম বাবলের এক্সপোনেনশিয়াল প্রসারণ থেমে যেতে পারে, অথবা পরবর্তীতে এটি সমবেগে প্রসারিত হতে পারে। ********************* চীনের কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণের ভিন্ন ভারশনের ইনফ্লেশন প্রস্তাবটি গুথ, লিন্ডে ও অন্যান্য পদার্থবিদদের ইনফ্লেশন থেকে কিছুটা ভিন্ন কারণ এই নতুন ইনফ্লেশন মডেলটি স্কেলার ফিল্ডের উপর নির্ভর করে না, শুধুমাত্র কোয়ান্টাম এফেক্টের উপরেই নির্ভর করে। ********************* কিং ইউ কাই দলের হুইলার-ডিউইট সমীকরণের ‘কোয়ান্টাম পোটেনশিয়াল’ বা মেটাস্ট্যাবল ফলস ভ্যাকুয়াম বা স্পেস, টাইম, ম্যাটার বিহীন নাথিং বা ‘কিছু না’ হচ্ছে তাই যাকে লরেন্স ক্রস, ফ্রাংক উইজেল ‘ইনহেরেন্টলি আনস্ট্যাবল নাথিং’ বলেছেন। ******************** ইনফ্লেশন মহাবিশ্বের জ্যামিতিকে নির্ণয় করবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ********************* আইনস্টাইনের জেনারেল রিলেটিভিটি বা সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুসারে, আমরা যে মহাবিশ্ব বা স্থান-কালে থাকি তা টেবিল টপের মত সমতল, গোলকের তলের মত বক্রতল বা ঘোড়ার জিনের মতো বাইরের দিকে বাঁকা হতে পারে। ********************* মহাবিশ্বের ভাগ্য কি হবে তা একরকম তার প্রসারণের ভরবেগ এবং মহাকর্ষের টানের সংঘাতের উপর নির্ভর করে। ********************* যে কোন বয়সের যে কোন মানুষ যখন প্রথমবার কোয়ান্টাম মেকানিক্স সম্পর্কে জানতে পারে, তার চিন্তাভাবনার জগতে বেশ বড়সড় একটা ধাক্কা লাগে। ********************* “কেউ যদি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রথম দেখায় ধাক্কা না খায়, তাহলে খুব সম্ভবত সে এটা বুঝতেই পারেনি!” -নীল‌্স‌ বোর **********************আমাদের জগৎ তথা পদার্থ কোয়ান্টাম কণা বা ক্ষেত্র দিয়ে তৈরি বলে পদার্থের চরমতম স্বরূপ বুঝতে হলে আমাদের কোয়ান্টাম মেকানিক্স জানতেই হবে। ********************* রহস্যময়তায় পৃথিবীর সবচাইতে অদ্ভুত সায়েন্স ফিকশনকেও হার মানাবে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জগত। *********************** কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নিয়মগুলো যত না এসেছে যুক্তির সিঁড়ি বেয়ে তার চেয়ে বেশি এসেছে পরীক্ষালব্ধ ফল থেকে। ******************* প্রকৃতির নিষ্ঠুর উদাসীনতা কিংবা প্রতিকূলতাকে অস্বীকার করার একটা প্রাকৃতিক নির্বাচনজনিত তাৎক্ষণিক সুবিধা থাকলেও এমন ভাবার কোনও কারণ নেই যে মহাবিশ্বের নিয়মগুলো বাস্তবিকই আমাদের মনের মত। *********************************** বিজ্ঞানীরা আদৌ জানেন না প্রকৃতিজগতে সবকিছু কেন এভাবেই হয়, তারা শুধু জানেন কী হয়। *********************************** পদার্থ তথা প্রকৃতিকে বুঝতে হলে ইনভ্যারিয়েন্স ( অপরিবর্তনীয়তা) ও সিমেট্রি(প্রতিসমতা)সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী। ******************************* আইন্সটাইনের প্রশংসাপ্রাপ্তা এমি নোয়েদারের থিওরি বলে, যেখানেই সিমেট্রি পাওয়া যাবে, সেখানে অবশ্যই কোন না কোন নিত্যতার বা সংরক্ষণশীলতার সূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। ********************** নিত্যতার বা সংরক্ষণশীলতার সূত্র বলতে বোঝায় কোন ভ্যারিয়েবল (ভর, শক্তি, চার্জ ইত্যাদি) কোন একটা ট্রান্সফরমেশন বা রুপান্তরের মধ্য দিয়ে গেলেও অপরিবর্তিত থাকে। ******************************* একটা বড় মসৃণ লোহার গোলককে এক চক্কর ঘুরিয়ে আনলেও তার আগের চেহারা এবং এখনের চেহারার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না কারণ, গোলকটার রোটেশনাল সিমেট্রি (ঘূর্ণন প্রতিসাম্য) আছে। ********************* নোয়েথার থিওরেম অনুযায়ী, পদার্থবিদ্যার সূত্রগুলো সময়ের সাথে অপরিবর্তিত বা সিমেট্রিক হওয়ার অর্থ কোন একটা নিত্যতার সূত্র । ( হিসাব-নিকাশ করে দেখা গেল “শক্তি”র নিত্যতা!) **************** স্থানের সাপেক্ষে সিমেট্রিক সিস্টেম দেয় “ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র”! ******************** ভরবেগ থেকে পদার্থের গতিশক্তি আঁচ করা যায় কারণ , কারো ভরবেগ বেশি হওয়া মানে সে অন্য বস্তুর উপর বিশাল গতিশক্তিতে আঘাত করতে পারে। ************ পার্টিকেল এক্সিলেটরে নতুন কণাদের জন্য সিমেট্রি খোঁজা হয়, কারণ সিমেট্রি থেকে আঁচ করা যায়, এরা কোন সূত্র মেনে চলে। *************** পদার্থের Phase বা ‘দশা’ বা অণুগুলোর সাজ বা বিন্যাস পরিবর্তন হওয়া মানে তার অভ্যন্তরে কোন একটা সিমেট্রির বিবর্তন হওয়া। ******************* দশা এবং সিমেট্রির সম্পর্ক জল(বেশি সিমেট্রিক)ও বরফ(কম সিমেট্রিক) দিয়ে বোঝা যায়। ***********************জল তরল অবস্থায় কন্টিনিউয়াস ট্রান্সলেশন এবং রোটেশনাল সিমেট্রি দেখায়, কিন্তু বরফ হয়ে গেলে শুধু ডিসক্রিট ট্রান্সলেশনাল সিমেট্রি দেখাবে। *********************** ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন নামক ভগ্নাংশে কোয়ান্টাম স্পিনযুক্ত ফার্মি-ডিরাক স্ট্যাটিস্টিক্স মান্যতাকারি ফার্মিয়ন দিয়ে আমাদের সব পদার্থ তৈরি। ************** ফোটন, গ্র্যাভিটন নামক পূর্ণ সংখ্যায় কোয়ান্টাম স্পিনযুক্ত বোস-আইন্সটাইন স্ট্যাটিস্টিক্স মান্যতাকারী বোসন সব ধরণের বল বহন করে। ************* এক্সপেরিমেন্টালি কোয়ান্টাম স্পিনের দুই রকম চেহারা -স্পিন আপ এবং স্পিন ডাউন। *************** কোয়ান্টাম কণা হিসাবে অণু-পরমাণুগুলোর সব স্পিন যদি একই দিকে থাকে তখন সেই পদার্থ চৌম্বক ধর্ম দেখায়। *********************** একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার উপরে উঠলে অণু-পরমাণুগুলো এতই কাঁপা-কাঁপি শুরু করে যার জন্য তারা সব স্পিনকে আর একদিকে রাখতে পারে না। এই তাপমাত্রা (কুরী তাপমাত্রা) পার হলে চুম্বক আর তার চৌম্বকত্ব দেখাতে পারে না। আবার সেই সিমেট্রির বিবর্তন হওয়া। *************** গিঞ্জবার্গ এবং ল্যান্ডাউ এর মডেলটা বলে যে, তাপমাত্রার পরিবর্তনে পদার্থের অণু-পরমাণুদের অভ্যন্তরীণ শক্তির পরিবর্তন হতে হতে যখন পদার্থের মধ্যে নিজে নিজে (স্পন্টেনিয়াস) সিমেট্রি ব্রেকিং হয়, তখনই পদার্থ তার দশা পরিবর্তন করে। ******************* টপোলজিক্যালি দুইটি বস্তু একই হওয়ার শর্ত হল, আপনি পরিবর্তনের সময় তাকে ছিঁড়তে বা ভাঙ্গতে পারবেন না এবং তার মাঝে যে কয়টা গর্ত আছে, সেই সংখ্যাটা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। ****************** একটা আংটি,একটা ফ্রিজবি এবং একটা চা’য়ের কাপ টপোলজিক্যালি একই জিনিস। *************** একমাত্রিক এবং দ্বিমাত্রিক পদার্থে টপোলজিক্যাল সিমেট্রির পরিবর্তনেও পদার্থের দশা পরিবর্তিত হয়। ************** সুপার ফ্লুয়িড দশায় পদার্থের কোন সান্দ্রতা থাকে না। ************************************ সান্দ্রতা হল আকৃতি পরিবর্তনে তরল পদার্থ কতটুকু বাধা দেয়। ***************************** জলের থেকে মধুর সান্দ্রতা অনেক বেশি। ************************************* পরম শূন্য তাপমাত্রার উপরে দ্বিমাত্রিক তরল হিলিয়াম পরিবেশের তাপশক্তিতে স্পিনের ঘূর্ণিস্রোত বা ভরটেক্স তৈরি করে বলে সুপার ফ্লুয়িড বা সান্দ্রতা শূন্য নতুন কোন দশায় পরিবর্তিত হয়ে স্থিতিশীল হতে না পারলেও দুইটা ভরটেক্স একে অপরের উল্টোদিকে ঘুরলে ভিন্ন টপোলজির জন্য ভরটেক্স শূন্য স্থিতিশীল সুপার ফ্লুয়িড বা সান্দ্রতা শূন্য নতুন সিমেট্রি পেয়ে যাওয়া সম্ভব। *********** একমাত্রিক ফার্মিয়নের শেকলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলেই তারা ভয়ংকরভাবে আন্দোলিত হতে থাকে। আবার ভিন্ন টপোলজির বোসনের শেকলে অনেক শক্তি দিয়ে আঘাত করলেও সে সহজে আন্দোলিত হয় না। ************************** বিসমাথ সেলেনাইড দিয়ে বানানো সিলেন্ডারের দ্বিমাত্রিক পৃষ্ঠতল পাওয়া যাবে পরিবাহী আর অভ্যন্তরের ত্রিমাত্রিক বপু (Bulk) জুড়ে সে অপরিবাহী বা “টপোলজিক্যাল ইন্স্যুলেটর”। ****************************** Integer Quantum Hall Effect: ইলেক্ট্রনের একটা দ্বিমাত্রিক শিটের ভোল্টেজ প্রযুক্ত চৌম্বকক্ষেত্রের সাথে সুষমভাবে বাড়ে না কারণ ইলেকট্রনের শক্তি এবং ভরবেগের একটা নির্দিষ্ট রূপ বা টপোলজিক্যাল অর্ডারটা চৌম্বকক্ষেত্রের সাথে সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে বা কমে। ************************* একমাত্রিক, দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক সব ডাইমেনশনে টপোলজিক্যাল পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ****** মহাবিশ্বের প্রসারণের হার হাবলের ধ্রুবকের(পৃথিবীর সাপেক্ষে মোটামুটিভাবে দূরবর্তী ছায়াপথ গুলির বেগ ও দূরত্বের অনুপাত) উপর নির্ভর করে। *************************** হাবলের সূত্রে ,ছায়াপথ গুলি পৃথিবী কিংবা একে অপরের সাপেক্ষে যে বেগে চলে তা ঐ সংশ্লিষ্ট আপেক্ষিক দূরত্বের সমানুপাতিক । ***************** ছায়াপথ গুলির পারস্পরিক দূরত্ব এবং অপসারণ বেগের মধ্যে সমানুপাতিক সম্পর্ককে হাবলের নীতি বলে। এই সম্পর্কটিতে বেগ ও দূরত্বের অনুপাত যে ধ্রুবসংখ্যা তাকে হাবলের ধ্রুবক বলে।
……………………………………..

ut risus justo adipiscing eleifend ipsum ut neque. Sed ante. facilisis